আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের ধর্মীয় গুরুত্ব (পাঠ ৪)

আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

229

আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ বৌদ্ধধর্মের অন্যতম মূলতত্ত্ব। তথাগত বুদ্ধ জগতের দুঃখ মুক্তির উপায় হিসেবে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলনের উপদেশ দিয়েছেন। দুঃখ মুক্তির উপায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে, কঠোর শারীরিক কষ্ট কিংবা ভোগবিলাসে নিমগ্ন থাকা কেনোটিই দুঃখ হতে মুক্তির উপায় হতে পারে না। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ এই দুইটি চরম পন্থাকে বর্জন করে। তাই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ বৌদ্ধধর্মে মধ্যমপন্থা হিসেবে পরিচিত। বুদ্ধ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেই অর্হত্ব ফল লাভ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তৃষ্ণার ক্ষয় সাধন করে জন্ম-মৃত্যুর শৃঙ্খল হতে মুক্ত হন এবং পরম সুখ নির্বাণ লাভ করতে সক্ষম হন। বৌদ্ধদের পরম লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাণ। তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ। তৃষ্ণার কারণে মানুষ বারবার জন্যগ্রহণ করে দুঃখ ভোগ করে। তৃষ্ণার ক্ষয় সাধন বা নির্বাপিত অবস্থাই নির্বাণ। নির্বাণপ্রাপ্ত ব্যক্তি পুনরায় জন্মগ্রহণ করেন না। ফলে তিনি জন্মজনিত দুঃখ ভোগ করেন না। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ হচ্ছে নির্বাণ লাভের উপায়। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ সঠিকভাবে অনুশীলন করলে বৌদ্ধদের পরম লক্ষ্য নির্বাণ লাভ সম্ভব। সংসার জীবনে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলনকারী ব্যক্তি যাবতীয় অকুশল কর্ম সম্পাদন থেকে বিরত থেকে ধর্মপথে পরিচালিত হন। সংসার ত্যাগী বৌদ্ধভিক্ষু শ্রমণরা আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলনের মাধ্যমে অর্হত্ব ফল লাভ করে নির্বাণে উপনীত হন। তাই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম এবং বৌদ্ধ মাত্রই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলন করা উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
বিতর্ক অনুষ্ঠান
বিষয়: 'শুধু সংসার ত্যাগী সাধকের পক্ষেই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলন সম্ভব'।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...